Skip to content
Home » প্রাগৈতিহাসিক গল্পগ্রন্থ | গল্পের সারাংশ | Pragoitihashik Summary PDF

প্রাগৈতিহাসিক গল্পগ্রন্থ | গল্পের সারাংশ | Pragoitihashik Summary PDF

প্রাগৈতিহাসিক গল্পগ্রন্থ গল্পের বিষয়বস্তু ব্যাখ্যা সারাংশ নামকরণ Pragoitihasik pdf summary

বই রিভিউঃ প্রাগৈতিহাসিক (গল্পগ্রন্থ)
লেখকঃ মানিক বন্দোপাধ্যায়
রিভিউ করেছেনঃ Sukanta Bhattacharjee

প্রাগৈতিহাসিক শব্দটা পড়লেই আমার কেন জানি ডাইনোসরের কথা মনে হয়। আদতে, প্রাগৈতিহাসিক এখানে ইতিহাসেরও অতীত, আদিম কিছু ধ্যান, ধারণা, অভ্যাস ইত্যাদি নিয়ে রচিত কিছু ছোট গল্প। ডাইনোসর বিলুপ্ত হয়ে গেছে, কিন্তু বিলুপ্ত হয়নি মানবের মনে লুকিয়ে থাকা আদিম অন্ধকার। প্রাগৈতিহাসিককে মনে হয়েছে এমন কিছু অন্ধকারের গল্প।

এখানে একটু বলে রাখি যে, মানিক বন্দোপাধ্যায়ের এই গল্পগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৭ সালে। কাজেই গল্পগুলো পড়ার সময় এই সময়টা মাথায় রাখলে ঐ সময়কার প্রেক্ষাপট বুঝতে সুবিধা হবে।

এবার আসা যাক, গল্পে। প্রথম দুই গল্প “প্রাগৈতিহাসিক” আর “চোর” এই গল্প দুটি অসাধারণ। পৃথিবীর সৃষ্টিলগ্ন থেকে যে দুই অপরাধ আজ অবধি চলে এসেছে এই দুটি তারই গল্প। বিচার, বিবেক বিসর্জিত হয়ে অন্যের অধিকারে হস্তলাঘব করার এই নগ্ন প্রভৃতি যেন সব মানুষের ডি এন এর সাথেই মিশে আছে। শুধু কারও কারো বা অনেকেরই এই কুচিন্তা প্রস্ফুটিত হয়না যথেষ্ট সাহসের অভাবে।

“যাত্রা” গল্পটি পণপ্রথার মতো কুৎসিত অন্যায় আচার নিয়ে লেখা। “প্রকৃতি” ও “ভূমিকল্প” গল্পগুলো নিয়ে কিছু লিখতে ইচ্ছে হচ্ছেনা৷ সহজ এবং অসাধারণ দুটি গল্প।

[কাঁদে প্রাণ যবে আঁখি
সযতনে শুকায়ে রাখি;-
নিরমল নয়নের জলে,
পাছে লোকে কিছু বলে।]

আরও পড়ুনঃ বনফুলের শ্রেষ্ঠ গল্প PDF Download | Bonofuler Srestho Golpo PDF

“ফাঁসি” গল্পের রমা নামের গৃহবধুটির পরিণতির সাথে এই কবিতাংশটিত দারুণ মিল লক্ষ্য করেছি।

এই অন্ধকারে বিচরণ করতে করতেও এক আধটু হেসেছি “অন্ধ” গল্পে। প্রথম প্রথম মনে অনুতাপ হয়েছে, বেচারি অন্ধ। কিন্তু, যখনি এই সমস্যাকে ব্যবহার করে নিজের বেয়াইনের হাটু, মাথায় আঘাত করে বিড়াল তাড়ানোর ছলে, মনে মনে বলে উঠেছি, “বেশ করেছে”।

“চাকরি”। আহারে চাকরি। বেকারের দুর্ভোগের মতো ভগবান বোধহয় আর কিছু সৃষ্টি করেননি। প্রকৃত বেকারের জন্যে বোধহয় নরকভোগ আর দরকার হয় না। গল্পটাকে আসলে কিসের গল্প বলা যায়? বেকারত্বের গল্প? প্রতারণার গল্প?

সর্বশেষ “মাথার রহস্য” গল্প। এক বাবা, রিটায়ার্মেন্টের অর্জিত ২০০০ টাকা ব্যাংকে জমা দিতে যায়। কিন্তু, তার হদিস আর সঠিক ভাবে বলতে পারে না। শেষমেশ, ২০০০ টাকা কোথায় গেল সেই রহস্যের উন্মোচন যখন হয়, বই তখন শেষ।

এই বই সার্থক। এই বইয়ের নামকরণ সার্থক। শেষে দুইটা লাইন হুবুহু বই থেকে তুলে দিই।

“হয়তো ওই চাঁদ আর এই পৃথিবীর ইতিহাস আছে। কিন্তু যে ধারাবাহিক অন্ধকার মাতৃগর্ভ হইতে সংগ্রহ করিয়া দেহের অভ্যন্তরে লুকাইয়া ভিখু ও পাঁচী পৃথিবীতে আসিয়াছিল এবং যে অন্ধকার তাহারা সন্তানের মাংসল আবেষ্টনীর মধ্যে গোপন রাখিয়া যাইবে তাহা প্রাগৈতিহাসিক, পৃথিবীর আলো আজ পর্যন্ত তাহার নাগাল পায় নাই, কোনোদিন পাইবেও না।”

আরও পড়ুনঃ পদ্মানদীর মাঝি PDF | সারাংশ | Padma Nadir Majhi Book Review

Tags:
x
error: Content is protected !!