Skip to content
Home » কারাগারের রোজনামচা সারমর্ম | PDF | বই রিভিউ | বিসিএস প্রশ্ন উত্তর

কারাগারের রোজনামচা সারমর্ম | PDF | বই রিভিউ | বিসিএস প্রশ্ন উত্তর

কারাগারের রোজনামচা PDF Download রিভিউ Karagarer Rojnamcha

বই: কারাগারের রোজনামচা
লেখক: শেখ মুজিবুর রহমান
বিষয়: ইতিহাস, রাজনীতি
ধরন: স্মৃতিকথা
প্রকাশনী: বাংলা একাডেমি
প্রচ্ছদ ও গ্রন্থ নকশা: তারিক সুজাত
প্রথম প্রকাশ: মার্চ ২০১৭
মুদ্রণ: ৭ম, এপ্রিল ২০১৮
পৃষ্ঠা: ৩৩২
মুদ্রিত মূল্য: ৪০০ টাকা
রেটিং: ৯.৫/১০
রিভিউ করেছেনঃ Bushra Sheikh

❝থালা বাটি কম্বল,
জেলখানার সম্বল।❞

কারাগারের রোজনামচা বইটি শুরুই হয় এমন মর্মস্পর্শী লেখা দিয়ে। জেলখানায় বসে লেখা খাতাগুলোর সংকলন বইটি। পুরো বইয়ের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়লে জানা যাবে বঙ্গবন্ধু নামের এক রাজনীতির কবিকে। জানা যাবে বঙ্গবন্ধুর জেল জীবনের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, দেশের মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালবাসা, বাঙালিদের ভেতরকার কিছু বিশ্বাসঘাতক রূপ, পশ্চিম পাকিস্তানির নির্মম শাসন, পীড়ন, বঙ্গবন্ধু পরিবারের অসহায়ত্ব, ন্যায়বিচারের অভাবে দন্ডপ্রাপ্ত বহু নেতৃবৃন্দের ইতিহাস, নিয়তির জালে আটকা পড়া বেশ কিছু কয়েদিদের বাস্তব জীবনকাহিনী। কারাগারের রোজনামচা’ বইটি মূলত বঙ্গবন্ধুর কারাগারে থাকাকালীন দৈনন্দিন লিখিত ডায়েরি।

কাহিনিসংক্ষেপ:

রোজনামচায় যাওয়ার পূর্বে ‘থালা-বাটি কম্বল, জেলখানার সম্বল’ শীর্ষক অংশে বঙ্গবন্ধু অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী ভাষায় জেলখানার নানা নিয়মকানুন আলোচনা করেছেন। সাধারণত জেলখানার অভ্যন্তরের বিষয় সাধারণ পাঠকের জানার সুযোগ থাকে না।

“জেলে যারা যায় নাই, জেল যারা খাটে নাই তারা জানে না জেল কী জিনিস। বাইরে থেকে মানুষের যে ধারণা জেল সম্বন্ধে ভিতরে তার একদম উল্টা। জেলের ভিতর অনেক ছোট ছোট জেল আছে।”

বঙ্গবন্ধু এভাবেই শুরু করেছেন জেলের ভেতরে কয়েদিদের নানা দায়-দায়িত্বের বিবরণ। যেমন, রাইটার দফা, চৌকি দফা, জলভরি দফা, ঝাড়ু দফা, বন্দুক দফা, পাগল দফা, দরজি খাতা, মুচি খাতা ইত্যাদি। এই অধ্যায়ে বঙ্গবন্ধু ইংরেজ ও পাকিস্তান আমলে রাজবন্দিদের সুযোগ-সুবিধার তুলনামূলক আলোচনা করেছেন। তাঁর মতে, ইংরেজ আমলে খাবার ও থাকার ব্যবস্থা ভালো ছিল।

জেলখানার হাসপাতালের চিকিৎসার মান নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা আছে। ভালো, মন্দ দুই ধরনের দৃষ্টান্তের উল্লেখ করেছেন। বন্দিরা সপ্তাহে একটি চিঠি আর ১৫ দিনে একবার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারত। কিন্তু সেখানেও বাধা-নিষেধ ছিল। গোয়েন্দা দপ্তরের কর্মচারীদের পড়ার পর চিঠি হাতে পাওয়া যেত, সাক্ষাতের সময় গোয়েন্দা ও জেলের কর্মচারীরা উপস্থিত থাকত।

বঙ্গবন্ধু দুঃখ করে লিখেছেন:

“নিষ্ঠুর কর্মচারীরা বোঝে না যে স্ত্রীর সাথে দেখা হলে আর কিছু না হউক একটা চুমু দিতে অনেকেরই ইচ্ছ হয়, কিন্তু উপায় কী? আমরা তো পশ্চিমা সভ্যতায় মানুষ হই নাই। তারা তো চুমুটাকে দোষণীয় মনে করে না। স্ত্রীর সাথে স্বামীর অনেক কথা থাকে কিন্তু বলার উপায় নাই।”

এই অধ্যায়ে আরও কিছু বিষয়ের অবতারণা করেছেন। জেল-জীবনের শুরু থেকেই সিপাহি, কয়েদিদের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর বেশ আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে উঠে ছিল। যে কারণে সবাই তাঁর সঙ্গে সৌজন্যপূর্ণ আচরণ করেছে। তিনিও জেলের আইন মেনে চলতেন, তবে সাধারণ কয়েদিদের সঙ্গে জেল কর্তৃপক্ষের অন্যায় আচরণের প্রতিবাদ করতেন।

সাধারণ মানুষকে বঙ্গবন্ধু সব সময় দেখেছেন মমতা ও সহানুভূতির চোখে, লুদু ওরফে লুৎফর রহমানের প্রতি তিনি যে সম্মান দেখিয়েছেন, তা এককথায় নজিরবিহীন। তথাকথিত ভদ্রলোকেরা লুদুদের সঙ্গে কথাও বলবেন না। কারণ লুদু একজন পেশাদার চোর। লুদুর সঙ্গে বঙ্গবন্ধু যে সদয় আচরণ করেছেন তাতে মনে হয়েছে ‘অপরাধকে ঘৃণা কর, অপরাধীকে নয়’ তিনি আক্ষরিক অর্থে তা বিশ্বাস করতেন।

বাঙালির স্বাধিকার অর্জনের ইতিহাসে ছয় দফা আন্দোলন একটি অসামান্য দিক পরিবর্তনকারী ঘটনা। ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলীয় কনভেনশনে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন। উল্লেখ্য, ২৬ বছর পূর্বে আরেক বাঙালি শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন। লাহোর প্রস্তাব যেমন গৃহীত হয়েছে, ছয় দফা তেমনি প্রত্যাখাত হয়েছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু বিশ্বাস করতেন ছয় দফা হল বাঙালির বাঁচার দাবি। তাই ছয় দফার পক্ষে জনমত গঠনে জানপ্রাণ দিয়ে নেমে পড়লেন।

ছয় দফা আন্দোলন দমনের নামে পাকিস্তান সরকার জেল-জুলুম অত্যাচারের পথ বেছে নিল। ১৯৬৬ সালের ৮ মে রাতে বঙ্গবন্ধুকে দেশরক্ষা আইন ৩২(১)ক ধারা অনুযায়ী গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পূর্বে ১৯৬৬ সালের ২০ মার্চ থেকে ৭ মে পর্যন্ত তিনি ৩২টি জনসভায় ভাষণ দেন। ৫০ হাজার লিফলেট ছাপিয়ে জনসাধারণের মাঝে বিতরণ করা হয়। সব মিলে তুলনামূলক স্বল্প সময়ের মধ্যে ছয় দফার পক্ষে জনমত দানা বেঁধে উঠে। ৭ জুনের হরতাল প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়।

আরও পড়ুনঃ আমার দেখা নয়াচীন রিভিউ পিডিএফ | শেখ মুজিবুর রহমান PDF

বাস্তবিক অর্থে ছয় দফা আন্দোলন পাকিস্তানের রাজনীতিকে দ্বিধাবিভক্ত করে দেয়, হয় ছয় দফার পক্ষে, না হয় বিপক্ষে। ধান্দাবাজ, সুবিধাবাদী তথাকথিত প্রগতিবাদীদের পক্ষে ছয় দফার পক্ষে থাকা সম্ভব ছিল না। বিশেষ করে পূর্ব পাকিস্তানে এই বিভাজন প্রকট ধারণ করে। ন্যাপ নেতা মশিয়ুর রহমান ছয় দফাকে বিচিন্নতাবাদের সঙ্গে তুলনা করেছেন, এর জবাবে বঙ্গবন্ধু ক্ষোভের সঙ্গে লিখেছেন: “জনগণ জানে এই দলটির কিছু সংখ্যক নেতা কিভাবে কৌশলে আইয়ুব সরকারের অপকর্মকে সমর্থন করছে। আবার নিজেদের বিরোধী দল হিসেবে দাবি করে এরা জনগণকে ধোঁকা দিতে চেষ্টা করছে। এরা নিজেদের চীনপন্থী বলেও থাকেন। একজন একদেশের নাগরিক কেমন করে অন্য দেশপন্থী, প্রগতিবাদী হয়?”

৭ জুন নিয়ে বঙ্গবন্ধুর নিজেরও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা কম ছিল না, একই সঙ্গে এদেশের জনগণের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস ছিল সীমাহীন। সারা জীবন ত্যাগ আর আদর্শের রাজনীতি করেছেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, ‘ত্যাগের মাধ্যমেই আদর্শের জয় হয়।’

৭ জুন বাঙালির ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদের উজ্জ্বল একটি দিন। আইয়ুব-মোনায়েম চক্রের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে আপামর জনতা রাজপথে নেমে আসে। নজিরবিহীন হরতাল পালন করে।

মামলা চলাকালীন ট্রাইব্যুনালে দেওয়া জবানবন্দিতে বঙ্গবন্ধু নিজেকে নির্দোষ দাবী করে বলেন:

“আমি পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সভাপতি। আমি অনিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে কদাপি আস্থাশীল নই। আমি কখনো পূর্ব পাকিস্তানকে পশ্চিম পাকিস্তান হইতে বিচ্ছিন্ন করিবার জন্য কোনো কিছু করি নাই কিংবা কোনোদিনও এই উদ্দেশ্যে কোনো স্থল, নৌ বা বিমানবাহিনীর কোনো কর্মচারীর সংস্পর্শে কোনো ষড়যন্ত্রমূলক কার্যে আত্মনিয়োগ করি নাই।”

যৌক্তিক কারণেই বঙ্গবন্ধুসহ অন্যান্য সব অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। সম্প্রতি বিভিন্ন গবেষণা এবং স্মৃতিকথা থেকে জানা যাচ্ছে যে, মূলত কৌশলগত কারণে তারা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

আরও পড়ুনঃ অসমাপ্ত আত্মজীবনী রিভিউ PDF | শেখ মুজিবুর রহমান

বলা যেতে পারে এই ভূখন্ডের মানুষের স্বাধীনতার জন্য তিনি কোনো পন্থাই বাদ দেননি। বাবা-মা, পুত্র-কন্যার ভালবাসা বিসর্জন দিয়েছেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়েছেন। দেশের মানুষও তাঁকে ভালোবেসেছে অকৃপণভাবে। ছাত্র-জনতা তাকে আইয়ুব কারাগার থেকে মুক্ত করে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে অভিষিক্ত করেছে।

জুলুম-নির্যাতন: বঙ্গবন্ধু কে অনেক জুলুম সহ্য করতে হয়েছে জেলে। নিয়মের বাইরে গিয়ে জেল কর্তৃপক্ষ জুলুম করেছেন বঙ্গবন্ধুকে। একাকী একটা সেলে রাখত বঙ্গবন্ধুকে। সেই সেলটা ও ছিল পাগলাগারদের পাশেই। সারাদিন একাকী থাকা আর রাতে পাগলের চিৎকারে নির্ঘুম রাত কাটাতে হতো প্রায়ই বঙ্গবন্ধুকে। বঙ্গবন্ধু বই আর পত্রিকা পড়েই দিন কাটাতো। জেলের ভিতর বাগান করেছিলেন, সেই বাগানে একাকী বিকালে ঘুরে বেড়াতেন, মুরগী পালতেন, পাখি তাড়াতেন। নানা ভাবে একাকী নিঃসঙ্গ জীবন কাটাতেন। বঙ্গবন্ধুর কারোর সাথে কথা বলার হুকুম ছিল না কারণ, যদি সে গোপনে জেলের মধ্যে বিপ্লব করে ফেলে! সারাদিন সংবাদপত্র আর বই পড়েই কাটাতো। কিন্তু বই পড়ার স্বাধীনতাও দেওয়া হতো না তাঁকে। বেছে বেছে বই দিত। যেসব বইয়ে রাজনীতির গন্ধ ও থাকতো সেসব বই দেওয়া হতো না। এমনকি পত্রিকার বেশিরভাগ খবরই কালো কালি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হতো। বৈষম্য সর্বত্র দেখা যেত। এমনকি জেলে ও চলত বৈষম্য। ধনীরা পেত ভালো জেল হোক সে অশিক্ষিত। আর শিক্ষিত কারো তেমন মর্যাদা ছিল না জেলে কারণ তাদের অর্থ নেই। বঙ্গবন্ধু বিশ্বাস করতেন, রাজনীতি করতে হলে নীতি থাকতে হয়। সত্য বলার সাহস থাকতে হয়। বুকে আর মুখে আলাদা হওয়া প্রকৃত রাজনীতিবিদ এর হওয়া উচিত নয়। তাই জেলে থাকা অবস্থায় তিনি কয়েদিদের বৈষম্য দূর করতেও প্রতিবাদ করতেন। জেলারের কাছে আবেদন করতেন যদিও তেমন আশানুরূপ সাফল্য অর্জন হতো না তবুও তিনি প্রতিবাদ করতেন। বঙ্গবন্ধু বলেন, ” মানুষকে জেলে নিতে পারে কিন্তু নীতিকে জেলে নিতে পারে না।”

কারাগারে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পবিত্র ইদ পালনেও হস্তক্ষেপ করত জেল কর্তৃপক্ষ। ১৯৬৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ইদ সরকারের হুকুমে জেলে ১২ ফেব্রুয়ারিতে পালন করতে হয়েছিল। স্ত্রী রেণুকে উদ্যেশ্য করে বলেছিলেন,

“চিন্তা করিও না।। জীবনের বহু ঈদ এই কারাগারে কাটাতে হয়েছে, আরো কত কাটাতে হয় ঠিক কি? তবে কোনো আঘাতেই আমাকে বাঁকাতে পারবে না। খোঁদা সহায় আছে।”

বঙ্গবন্ধু জেলখানায় অনেকবার অসুস্থ হয়েছেন কিন্তু কখনোই মনোবল হারাননি। একবার মায়ের অসুস্থতায় খুব ভেঙে পড়েন। একাকী সারারাত জেগে কাটিয়ে দেন। কিন্তু আপিল করেও মায়ের সাথে দেখা করার সুযোগ পাননি। বঙ্গবন্ধুর কোনো স্বার্থ নাই, লাভ নাই; তারপরেও তিনি দেশের মানুষের জন্য কত ত্যাগ স্বীকার করছেন। জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়গুলো জেলে কাটিয়েছেন। কত কষ্ট সহ্য করেছেন শুধু এদেশের মানুষের অধিকার আদায় করার জন্য। দেশকে ভালোবেসে তাই বলেছিলেন,

“তোমাকে আমি ভালোবাসি। মৃত্যর পর তোমার মাটিতে যেন আমার একটু স্থান হয়, মা।”

১৭মাস একা কারাবাস করার পরে আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক এডভোকেট আব্দুল মোমিন কে শেখ মুজিবুর রহমান এর জেলের কামরায় দেওয়া হয়। এরপর ই বঙ্গবন্ধু কে মুক্তি দেওয়া হয় এবং পুনরায় জেলগেট থেকে গ্রেফতার করেন সামরিক বাহিনী। এরপর আর লিখতে পারেননি শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধু সেই সময়ের নেতাদের ডেফিনেশন দিয়ে বলেছিলেন, “গুন্ডার পরে পান্ডা, পান্ডার পরে নেতা।”

বঙ্গবন্ধু তাঁর জীবন অনুধাবন করে লিখেছেন,

” কোনো ব্যথাই আমাকে দুঃখ দিতে পারে না এবং কোনো আঘাতই আমাকে ব্যথা দিতে পারে না।”

বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের পরিচয় (১৯৫৫-১৯৭৫) তুলে ধরেছেন বইয়ের শেষাংশে। বঙ্গবন্ধুকে জানার জন্য খুবই তথ্যবহুল বই “কারাগারের রোজনামচা”। একজন নেতা যিনি আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য। বহুবার জেল খেটেছেন। অনেক কষ্ট সহ্য করেছেন। যেই বাংলার মানুষের জন্য এত ত্যাগ করেছেন সেই বাংলার মানুষ ই ষড়যন্ত্র করে তাঁকে পরিবারসহ নির্মমভাবে হত্যা করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুকে জানতে এই বইটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুনঃ বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে যে বইগুলো একবার হলেও পড়া উচিত | সেরা ৫০০ বইয়ের তালিকা

পাঠপ্রতিক্রিয়া:

বঙ্গবন্ধু তার ৫৫ বছরের জীবনের ৪৬৮২ দিনই কাটিয়েছেন জেলে, গ্রেফতার হয়েছেন ২১ বার। এই বইটিতে অবশ্য ৪৬৮২ দিনের রোজনামচা নেই। বেশিরভাগটা জুড়ে ৬ দফা আন্দোলন পরবর্তী জেলজীবনের কথাই আছে। বইয়ের প্রথমেই আছে Jail-slang বা সাধারণ জিনিসকে জেলে কি নামে ডাকে তার বর্ণনা। রোজনামচা বা ডায়েরি লেখা শুরু হয় ২ জুন ১৯৬৬ থেকে।

একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষকে একাকিত্বের যন্ত্রণা দিয়ে তার স্পৃহা ভেঙে দেওয়াটাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য। ডায়েরি জুড়ে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধুর নিজেকে সুস্থ রাখা ও স্পৃহা অটুট রাখার লড়াই।

পছন্দের কিছু উক্তি:

বইটি যেমন আকর্ষণীয়, তেমনি এর মধ্যে এমন কিছু উক্তি আছে যা আমার ভীষণ পছন্দের।

১. যে অত্যাচার করে টিকে থাকতে চায় তার মেরুদণ্ড খুব দুর্বল, আঘাত করলেই ভেঙে যাবে।

২. যে লোক বেশি রাগান্বিত ও অধৈর্য হয়ে পড়ে, শেষ পর্যন্ত তাকেই হারতে হয়। মাথা ঠান্ডা রেখে যে সংগ্রাম চালিয়া যায়, শেষ পর্যন্ত তারই জয় হয়।

৩. সকল সময় ক্ষমা করা উচিত না। ক্ষমা মহত্ত্বের গুণ, কিন্তু জালেমকে ক্ষমা করা দুর্বলতারই লক্ষ্মণ।

৪. নীচতার সাথে যু*দ্ধ করতে হলে নীচতা দিয়েই করতে হয়, তাহা যখন পারবো না তখন নীরবে খোদার উপর নির্ভর করেই জেল খাটতে হবে।

আরও পড়ুনঃ সংস্কৃত নবরঙ্গ থেকে ইংরেজি Orange | কমলা | বাংলা ভাষার বিবর্তন

ব্যক্তিগত মতামত:

শেখ মুজিবুর রহমান রাজনীতির মানুষ, তিনি লেখক নন। তাই স্বভাবতই তাঁর লেখনী খুব সুখপাঠ্য নয়। কিন্তু তাই বলে এ বইয়ের মূল্য কমবে না একটুও। ছয় দফা দাবি থেকে শুরু করে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা পর্যন্ত কারাগারে থাকা দিনগুলো তিনি টুকে রেখেছেন ডায়েরিতে। এখানে সবিস্তারে তিনি বর্ণনা করেছেন, কারাগারের হালহকিকত, কয়েদি থেকে শুরু করে জেলার পর্যন্ত সবার। তবে আমার সবচেয়ে কষ্ট লেগেছে তাঁর ও তাঁর সহযোদ্ধাদের উপর তৎকালীন সরকারের অত্যাচার। মাসের পর মাস একজন মানুষকে একা আটকে রাখা কোন আইনে আছে তা আমার জানা নেই।

এ বইয়ের আরেকটা দিক আমাকে মুগ্ধ করেছে। বঙ্গবন্ধু কত সুন্দর করে তাঁর পোষা মুরগির বর্ণনা করেছেন, কত আশা নিয়ে প্রতিদিন অপেক্ষা করেছেন দুটো হলদে পাখির জন্য। এসব বিষয়গুলো তাঁকে আরো মানবিক করে তুলেছে।


আরও পড়ুনঃ বাংলা গালি অভিধান PDF রিভিউ Bangla Gali Ovidhan PDF

বইয়ের নামঃ কারাগারের রোজনামচা
লেখকঃ শেখ মুজিবুর রহমান
বইয়ের ধরনঃ আত্মকথা
পৃষ্ঠাঃ ৩৩২
মূল্যঃ ৪০০ টাকা
প্রথম প্রকাশঃ ২০১৭, ১৭ই মার্চ
প্রচ্ছদঃ তারিক সুজাত
প্রকাশনাঃ বাংলা একাডেমি
ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৪.৯/৫
রিভিউ করেছেনঃ Fahad Hossain Fahim

কারাগারের রোজনামচা ~ বাঙালি জাতির নবজাগরণের দুর্মদ সূর্য।

“ওরা বলল আমি না আসা পর্যন্ত শুধু জানালার দিকে চেয়ে থাকে, বলে ‘আব্বার বাড়ি’। এখন ওর ধারণা হয়েছে এটা ওর আব্বার বাড়ি। যাবার সময় হলে ওকে ফাঁকি দিতে হয়। “

ফারসি ভাষায় রোজনামচা শব্দের অর্থ দিনলিপি। ‘কারাগারের রোজনামচা’ এমন একজন জিতেন্দ্রিয় শেরপার বিষম দিনলিপি, যার ষোলোটি ঈদ কেটেছে কারাগারে, জীবনের চৌদ্দটি বছর কারাবাসের সুবাদে ১৮ মাসের ছেলে ধরেই নিয়েছিল যে কারাগারই হচ্ছে তাঁর বাবার বাড়ি! বাক্যবাগীশ মেয়েটার শুধু একটাই আবদার, থেকে যাবে বাবার সাথে! আর মমতাময়ী মা অনুরাগের সুরে বলে, ‘যে তোকে জেলে নেয় আমাকে একবার নিয়ে চল, বলে আসব তাকে মুখের উপর।’ সর্বংসহ ছেলেটা শুধু হাসে আর মনেমনে বলে, ‘কোনো ব্যথাই আমাকে দুঃখ দিতে পারে না এবং কোনো আঘাতই আমাকে ব্যথা দিতে পারে না।’ তৃতীয় বিশ্বের রাজনৈতিক নেতাদের কারাবাস সম্পর্কে মার্কিন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক রূপার্ট ইমারসনের বিখ্যাত ‘Jail Graduation’ শব্দদ্বয় বঙ্গবন্ধুর কারাজীবন সম্পর্কেও পাংক্তেয়। রাষ্ট্রনীতিবিদদের মতে, যেসকল নেতার ‘Jail Graduation’ নেই, তাঁরা পরীক্ষিত জনপ্রতিনিধিও নয়।

‘থালা বাটি কম্বল, জেলখানার সম্বল’ দিয়েই শুরু হয় বইটির সাতকাহন। কারাগারের নাম শুনলেই আমাদের মাথায় আসে: মর্ত্য নরক গুয়ানতানামো বে কিংবা শশাঙ্ক রিডেম্পশনের গল্প। আসলেই কারাগার – সে তো আলাদা এক দুনিয়া, যেখানে জেলের ভিতরেও থাকে ছোট ছোট অনেক জেল। তিন রকমের হয় জেল: কেন্দ্রীয়, জেলা ও সাবজেল। থাকে রাইটার, জলভরি, ডালচাকি ও শয়তানের কল নামক রকমারি দফাও। ১৯৬৬ সালে ৬ দফা দাবি উপস্থাপনের পরপরই গ্রেফতার হোন শেখ মুজিব। বন্দি থাকেন ১৯৬৬-১৯৬৯ সাল পর্যন্ত। সহধর্মিণীর অনুরোধে প্রতিদিনই লিখতেন ডায়েরি। ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত লেখাগুলিই স্থান পেয়েছে এই বইয়ে। বইটার নামকরণ করেছেন তাঁর কনিষ্ঠ তনয়া শেখ রেহানা। জাতির পিতার ৯৮ তম জন্মবার্ষিকীতে প্রকাশিত এই বইটি যেন বাঙালি জাতির জাগরণের দলিল।

আরও পড়ুনঃ সিদ্ধান্তহীনতা দূর করার উপায় কি? আমরা কেন সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগি?

‘সাগরে শয়ন যার শিশিরে কি ভয় তার?’ দেশপ্রেম, নীতি ও আদর্শের পাঞ্জেরি যে নেতা জেল-জুলুমের ভয় কি তাকে দমিয়ে রাখতে পারে? মোটেই না! তাইতো ফিনিক্স পাখি হয়ে শেখ মুজিব বলেছিলেন: ‘যেখানে ইনসাফ নাই, বিচার নাই, সেখানে কারাগারে বাস করাই শ্রেয়।’ কখনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোষ করেনননি শেখ মুজিব। আইন বহির্ভূত solitary confinement কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মুজিব বলেছেন: ‘মানুষকে জেলে নিতে পারে কিন্তু নীতিকে জেলে নিতে পারে না।’ ছয় দফাই ছিল সেই নীতি, সংগ্রামের পথ বেয়ে যা এক দফায় পরিণত হয়েছিল, সেই এক দফার নাম – স্বাধীনতা। দীর্ঘ কারাবাসের ফলে মাঝেমধ্যেই অসুস্থ হতেন তিনি। তবুও সেকথা পরিবারকে জানাতেন না। নিজের কষ্টের কথা না বলে, তিনি বারবার শুধু উল্লেখ করেছেন একাকী থাকার কথা। কি ছিল তাঁর অপরাধ? তাঁর অপরাধ তিনি বাংলার মানুষের অধিকারের কথা বলেছেন; ক্ষুধা, দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দিতে চেয়েছেন, শোষিত বঞ্চিত মানুষকে শোষণের হাত থেকে মুক্তি দিয়ে উন্নত জীবন দিতে চেয়েছেন।

কতটা আত্মপ্রত্যয় থাকলে বছরের পর বছর জেলে থেকেও একজন মানুষ স্বপ্ন দেখেছিলেন স্বাধীন দেশের! তিনি বলতেন: পূর্ব বাংলার লোক সেইদিনই ঈদের আনন্দ ভোগ করতে পারবে, যেদিন তারা দাসত্ব থেকে মুক্তি পাবে, এবং দেশের সত্যিকার নাগরিক হতে পারবে। শেষমেশ তিনি পেরেছেন ও বটে। ধাপে ধাপে মানুষকে স্বাধীনতার মন্ত্রে দীক্ষিত করেছন। সামরিক শাসকগোষ্ঠী হয়তো কিছুটা ধারণা করেছিলেন, কিন্তু শেখ মুজিবের রাজনৈতিক প্রজ্ঞার কাছে তারা হার মানতে বাধ্য হয়েছিল।

ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি উত্থাপনের পর শুধু বঙ্গবন্ধুই গ্রেফতার হননি তাঁর সঙ্গে প্রায় সব আওয়ামী লীগ নেতা এমনকি কর্মীদেরও গণহারে গ্রেফতার করা হয়। ৬ দফা দাবিকে সমূলে উৎপাটনের জন্য গ্রেফতার করা হয় সংবাদপত্রের মালিক ও সম্পাদকদেরও। লেখকের ভাষায়, ‘পাকিস্তান দেশরক্ষা আইন বলে ‘নিউনেশন প্রেস’ বাজেয়াপ্ত করিয়াছে সরকার। এই প্রেস হইতে ইত্তেফাক, ইংরেজি সাপ্তাহিক ঢাকা টাইমস ও বাংলা চলচ্চিত্র সাপ্তাহিক ‘পূর্বাণী’ প্রকাশিত হইত। ইত্তেফাক কাগজ বন্ধ করে এবং তাহার মালিক ও সম্পাদককে গ্রেপ্তার করে ৬ দফা দাবিকে বানচাল করতে চায়। কিন্তু আর সম্ভব না। এতে আন্দোলন আরও দানা বেঁধে উঠবে। যার পরিণতি একদিন ভয়াবহ হবে বলে আমার বিশ্বাস।’ বিভিন্ন অজুহাতে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হতো। কারণগুলো অন্য সবাই মেনে নিলেও তাঁর মায়ের অবুঝ মন সেগুলো মানতে চাইতো না। তাই বঙ্গবন্ধুকে যখন ১৯৪৯ সালে গ্রেফতার করে ১৯৫২ সালে ছাড়ে তখন তাঁর মা বলেছিলেন, ‘বাবা, তুই তো পাকিস্তান পাকিস্তান করে চিৎকার করেছিস, কত টাকা নিয়ে খরচ করেছিস- এদেশের মানুষ তো তোর কাছ থেকেই পাকিস্তানের নাম শুনেছিল, আজ তোকেই সেই পাকিস্তানের জেলে নেয় কেন?’ কারাগারে পরিবারের বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাতের সামান্য সময়টুকু ছিল খুবই আবেগময়। বঙ্গবন্ধুর ভাষায়, ‘সেই পুরান দৃশ্য। রাসেল হাচিনার কোলে। আমাকে দেখে বলছে, আব্বা! আমি যেতেই কোলে এলো। কে কে মেরেছে নালিশ হলো। খরগোশ কিভাবে মারা গেছে, কিভাবে দাঁড়াইয়া থাকে দেখালো। দূর থেকেই বাচ্চাটা ‘আব্বা, আব্বা’ করে ডাকতে শুরু করে।’

বইটিতে শেখ মুজিব তাঁর ঐতিহাসিক ৬ দফার উৎসেরও সন্ধান দিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, ‘শেরে বাংলা হক ১৯৪০ সালে ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব পেশ করেন এবং সেই প্রস্তাবের জন্যই আজ আমরা পাকিস্তান পেয়েছি। লাহোর প্রস্তাবে যে কথাগুলো ছিল আমি তুলে দিলাম, ‘নিখিল ভারত মুসলিম লীগ তথা এ দেশের কয়েক কোটি মুসলমান দাবি করেছে যেসব এলাকা এবং ভারতের পূর্বাঞ্চল, প্রয়োজন অনুযায়ী সীমানার বদল করিয়া ওই সব এলাকাকে ভৌগোলিক দিক দিয়া এরূপভাবে পুনর্গঠিত করা হোক যাহাতে উহারা স্বাধীন ও স্বতন্ত্র স্টেটসের রূপ পরিগ্রহ করিয়া সংশ্লিষ্ট ইউনিট সম্পূর্ণ স্বায়ত্বশাসিত ও সার্বভৌমত্বের মর্যাদা লাভ করিতে পারে।’

কারাগারের রোজনামচা মূলত শেখ মুজিবের দুটো খাতার শব্দচিত্রের দুর্মর ও শৈল্পিক সমাহার যার প্রথমটি লেখা হয়েছে ১৯৬৬ সালে এবং দ্বিতীয়টি ১৯৬৭ সালে। বইটির প্রকাশনা ও কর্মসূচি পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন বাংলা একাডেমির গবেষণা, সংকলন এবং অভিধান ও বিশ্বকোষ বিভাগের পরিচালক মোবারক হোসেন। অর্থায়ন করেছিল ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার’-এর সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, ভূমিকা লিখেছেন শেখ হাসিনা, বইটির গ্রন্থস্বত্ব ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’-এর এবং বইটি সর্বশেষ অনূদিত হয়েছে ফরাসি ভাষায় ‘Journal de Prison’ নামে। মুজিব শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২১ সালে সিরাজগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি নাট্যদল বইটি অবলম্বনে মঞ্চায়ন করেছে একটি নাটক।

আরও পড়ুনঃ নকশী কাঁথার মাঠ কাব্যগ্রন্থের রুপাই চরিত্রের বাস্তব পরিচয় ও জীবনী

বস্তুত ‘কারাগারের রোজনামচা’ আমাদের ইতিহাসের এক অনবদ্য দলিল। জেলখানার আত্মিক বিবরণ আছে বইটিতে। মনের মধ্যে ঢাকা জেলখানা ঘুরে আসার ইচ্ছেও জাগতে পারে এই বইটি পড়লে যে, কল্পনার সাথে মিলিয়ে নেই-আরে ওই তো ওইখানে বঙ্গবন্ধু থাকতেন, ঐখানে বসতো হলুদ পাখি, তাঁর সামনের বাগান। বঙ্গবন্ধু বসে বসে খিচুড়ি রান্না করছেন-পরে মুরগির মাংস দিয়ে বিলিয়ে দিচ্ছেন সবার মাঝে। অথচ তিনিও বন্দী। অদূরে হাসপাতালের দিকে তাকিয়ে তিনি নজর বিনিময় করতেন। জেলখানা কর্তৃপক্ষ কি সেই সুযোগ করে দিবে? জায়গা-মতো বঙ্গবন্ধুর উক্তি গুলো এঁকে দিয়ে খুব সুন্দর ঐতিহাসিক মোহ তৈরি করবার সুযোগ কিন্তু আছে!কারাগারকে আপনি তখন দেখবেন অন্য চোখে। সবার আত্মত্যাগেই যে আজকের এই স্বাধীনতা-তাদের কথা ভাববার সুযোগ মিলবে তখন। আর বইয়ের শেষে বঙ্গবন্ধুর কিছু দুর্লভ ছবি এবং ৬ দফার সমর্থনে বঙ্গবন্ধুর লেখা আমাদের বাচাঁর দাবি ছয় দফা যোগ করা হয়েছে যা পাঠকের জন্য অতিরিক্ত প্রাপ্তি। পাঠকের জয় হোক।

প্রিয় উক্তিঃ

১. রাজনীতি করতে হলে নীতি থাকতে হয়। সত্য কথা বলার সাহস থাকতে হয়। বুকে আর মুখে আলাদা না হওয়াই উচিত।

২. ত্যাগের মাধ্যমেই আদর্শের জয় হয়।

৩. বাঙালির একটা গোঁ আছে, যে জিনিস একবার বুঝতে পারে তার জন্য হাসিমুখে মৃত্যুবরণও করতে পারে।

৪. শান্তি চেয়ে আনা যায় না, আদায় করে নিতে হয়। অত্যাচারীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও। অত্যাচারী ভয় পেয়ে যাবে। যে অত্যাচার করে টিকে থাকতে চায় তার মেরুদণ্ড খুব দুর্বল। আঘাত করলেই ভেঙে যাবে।

আরও পড়ুনঃ শেখ মুজিব আমার পিতা PDF বই রিভিউ গ্রন্থ সমালোচনা | শেখ হাসিনা

Tags:
x
error: Content is protected !!