Skip to content
Home » ছাড়পত্র কাব্যগ্রন্থ PDF রিভিউ | সুকান্ত ভট্টাচার্য | Charpotro | Sukanta

ছাড়পত্র কাব্যগ্রন্থ PDF রিভিউ | সুকান্ত ভট্টাচার্য | Charpotro | Sukanta

ছাড়পত্র সুকান্ত ভট্টাচার্য গল্প কবিতা রচনা সমগ্র pdf

সুকান্ত রচিত কবিতা-কর্মের মধ্যে ‘ছাড়পত্রে’র একটা বিশেষ মর্যাদা আছে। ‘ছাড়পত্র’র কবিও বাংলা সাহিত্যে একটা বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে আছেন। তাঁর কবিতা বিলাসের সামগ্রী নয়। খেয়ালের বশবর্তী হয়ে কবিতা লিখেনননি সুকান্ত। অত্যন্ত সচেতন ক্রিয়াশীল মন নিয়ে তিনি সাহিত্য চর্চা করেছেন। সুকান্তর রচনা তাই ।মাদের উদ্বুদ্ধ করে, চিন্তার উদ্রেক ঘটায়; ভাবতে শেখায় এবং ছুঁয়ে যায় আমাদের হৃদয় ।

“যে শিশু ভূমিষ্ঠ হল আজ রাত্রে
তার মুখে খবর পেলুমঃ
সে পেয়েছে ছাড়পত্র এক,
নতুন বিশ্বের দ্বারে তাই ব্যক্ত করে অধিকার
জন্ম মাত্র সুতীব্র চীৎকারে।”

‘ছাড়পত্র’ কবিতার এই অংশবিশেষ থেকে বুঝা যায়, মানুষের জন্ম তো কেবল লোকালয়ে নয়, এই বিশাল বিশ্বে তাঁর জন্ম। বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের সঙ্গে তাঁর প্রাণের গভীর সম্বন্ধ আছে।’ তো এখানে যদি শিশু সুতীব্র চীৎকারে তার প্রাণের অধিকার ব্যক্ত না করে-তাহলে করবে কোথায়?

আরও পড়ুনঃ সুকান্ত সমগ্র | Sukanta Samagra PDF | সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতা সমগ্র

শিশুকে ভালবাসে না এমন মানুষ পৃথিবীতে খুব কমই আছে। বিশেষত এমন কোন কবি সাহিত্যিক নেই যাঁরা শিশুকে আগামী দিনের ভবিষ্যৎ ভাবেননি। রবীন্দ্রনাথ তো বলেই বসেছেন, ‘ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুদের অন্তরে।’ তিনি শিশুদের প্রচণ্ড ভালবাসতেন। নজরুল, ভিক্টর হুগো, ওয়ার্ডসওয়ার্থ, ভিক্টর ওয়ার্থ, টেনিসন প্রমুখ গুণীজনরাও শিশু এবং শৈশবের অনুরাগী ছিলেন। কিন্তু শিশুকে নিয়ে সুকান্ত যে কাব্য রচনা করেছেন, তা এমন করে আর কেউ কখনো লেখেননি। খুব কম দার্শনিকের দর্শনেই প্রকাশ পেয়েছে শিশুর এই সুতীব্র চীৎকার! এখানেই সুকান্তর নতুনত্ব ও কৃতিত্ব ।

ছাড়পত্রের কবি নবজাতকের ভাষা বুঝেন। তাইতো তিনি শাশ্বত ডাক দিয়ে যান,

“এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান;
জীর্ণ পৃথিবীতে ব্যর্থ, মৃত আর ধ্বংসস্তূপ পিঠে চলে
যেতে হবে আমাদের।”

চলে তো যেতেই হবে। কিন্তু কিভাবে? আপোষে নয়। অকর্মণ্য হয়েও নয় ।

“চলে যাব-তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ
প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল।”

আরও পড়ুনঃ অপ্রচলিত রচনা | সুকান্ত ভট্টাচার্য | PDF | Sukanta Bhattacharya

পৃথিবীর বৈরী পরিবেশে শিশুদের অসহায় অবস্থায় রেখে মহাকালের পথে যেতে রাজী নন কবি সুকান্ত । শিশুদের জন্য একটি নতুন আবাসভূমি তৈরি করতে চান তিনি। তাই তিনি বলেছেন,

“এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি-
নব জাতকের কাছে আমার দৃঢ় অঙ্গীকার ।
অবশেষে সব কাজ সেরে,
আমার দেহের রক্তে নতুন শিশুকে
করে যাবো আশীর্বাদ।
তার পর হব ইতিহাস”

‘রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, শিশুর জন্ম কোন আকস্মিক ব্যাপার নয়। ‘বিশ্বের সমস্ত রহস্যের মধ্যখান থেকে শিশুর আবির্ভাব হয়। শিশুদের মুখে তিনি দেখেছেন স্বর্গের ছবি।

শিশু সম্পর্কে টেনিস্স্ন তাঁর ডিপ্রোফন্ডিস কবিতায় বলেছেন,

Out of the deep, My child, out of deep,
Live, & be happy, in thy self, & serve
This mortal race thy kin so well, that men
May bless thee as we bless thee, o young life
Breaking with laughter from the dark;

কবি সুকান্তের কলমের আঁচড়ে ছাড়পত্রের মত কবিতা লেখা হবার পর বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে সুকান্তকে নিয়ে ভাবতে শুরু করলেন বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকগণ। এবং প্রমাণিত হল ছাড়পত্র সুকান্তের একটি অনবদ্য সৃষ্টি। ছাড়পত্র কবিতায় সুকান্তের আরেকটি নতুন চোখ উন্মোচিত হয়, যে চোখ দিয়ে তিনি পৃথিবীর অসহায় শিশুদের দেখতে পান।

আরও পড়ুনঃ সুকান্ত ভট্টাচার্যের জীবনী | ১ম পর্ব | সম্পূর্ণ জীবন কাহিনী | Sukanta

Tags:
x
error: Content is protected !!