Skip to content
Home » পুতুল নাচের ইতিকথা রিভিউ PDF | মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় উপন্যাস সমালোচনা

পুতুল নাচের ইতিকথা রিভিউ PDF | মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় উপন্যাস সমালোচনা

পুতুল নাচের ইতিকথা রিভিউ PDF Download মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় উপন্যাস

বইঃ পুতুল নাচের ইতিকথা
লেখকঃ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

মানিকবাবুর লেখা “পদ্মা নদীর মাঝি” উপন্যাসটি নিশ্চয়ই একাডেমিক লাইফে পড়ে এসেছেন। যেটা নিয়ে এখনো সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা ব্যঙ্গচিত্র দেখা যায়। কুবের এবং কপিলাকে নিয়ে তৈরি মিমগুলো বেশি জনপ্রিয়। যাইহোক, শিক্ষাজীবনে যারা মানিকবাবুকে পড়েছেন তারা নিশ্চয়ই জানেন উনার লেখার গভীরতা কত।

প্রাইমারি হেডটিচার আমার নানু বলতেন, মানিক বাবু খুব শক্তিমান লেখক। আমি ভাবতাম, মানিক বাবু হয়ত অনেক পেশিবহুল লম্বাচওড়া কোন লোক। সিনেমার নায়কের মত যে একাই একশজনকে শুইয়ে দিতে পারে। কিন্তু সেই শক্তি যে পেশিশক্তি নয় সেটা বুঝার ক্ষমতা হয়েছে অনেক পরে।

তখন আমি খুব ছোট। পুতুলজাতীয় কোন আলোচনা মানেই আমাদের ধারনা ছিলো এটা মেয়েলি বিষয়। আর মেয়েলি কোন টাচ আছে এমন জিনিসের কথা চিন্তা করাও সে সময়ে আমাদের জন্য নিষেধ ছিলো।

সে সময় গ্রামে গ্রামে ছোটছোট মেলা হতো। যখন যে গ্রামে মেলা হতো আশপাশের তেরো গ্রাম পর্যন্ত উৎসব ছড়িয়ে থাকতো। আর আমি শুধু খুজে বেড়াতাম মেলার কোন অংশে পুতুল নাচের আসর বসেছে। শক্তিমান মানিক বাবুকে দেখবো বলে।

আশ্চর্যের বিষই এই জীবনে ফাল্গুনী পাঠকের গানের ভিডিও ছাড়া আর কোথাও কোন পুতুল নাচ দেখা হয়নি আমার। (তুনে চুনরি কিও লেহরায়ি, ওওওও ওও..)

কিন্তু এই বইটা পড়ার পর আমি বুঝেছি পুতুলনাচ দেখা হয়নি, আমার এ ধারনা মিথ্যা, বানোয়াট, কল্পনাপ্রসূত। প্রতিনিয়ত পুতুল আর তার নাচের মধ্যেই ঘিরে আছি।

আরও পড়ুনঃ পিডিএফ বলতে কি বুঝায় ? এর কাজ কি ? বাংলা পিডিএফ বই ফ্রি ডাউনলোড

মানুষ খুবই গোঁজামিল দেওয়া জাতী। নিজের দুর্বলতা ঢাকার জন্য সে নিজের আদলে খেলনা বানায়। মানুষকে নিয়ে যেমন যথেচ্ছা খেলা হচ্ছে। ঠিক সেরকম করে খেলনা দিয়ে খেলে ফেইক আত্মতুষ্টিকে ভোগে। নিজের লজ্জা লুকিয়ে রাখার অসম্ভব চেষ্টা করে যায় সব সময়।

বইটা পড়ার পর এই বিশাল পৃথিবীর অসংখ্য পুতুল নাচ প্রতিদিন দেখার তুষ্টি অথবা বেদনা আমাকে ঘিরে ধরে। আমি জানতে পারি মানিক বাবুর শক্তিমত্তা সম্পর্কে। শুধু একশত নয়! কোটিকোটি মানুষকে আঙ্গুলের ইশারায় শুইয়ে দেওয়ার ক্ষমতা আছে তার।

পুতুল নাচের ইতিকথা উপন্যাসটিতে অতি ছোট একটা প্লট। অযথা ঝকমকি নাই, নাই বাড়তি আস্ফালন। আপনার আমার হয়ত শশী-কুমুদ, মতি-কুসুম বা গোপালদের এই ঘটনাগুলো বিশেষভাবে চোখে পড়ার মত মনেই হতো না কখনো। কিন্তু রোজকার ডালভাত এই ঘটনা গুলোর মধ্যে যে এমন বিশেষ কিছু থাকতে পারে, থাকতে পারে এত মাদকতা তা মানিক বাবু দেখিয়েছেন।

গল্পটা আসলে মনস্তাত্ত্বিক। মানুষের মনের ভেতর ঢুকে তার নিজের সাথে যে আলোচনা। তার ক্ষনেক্ষনে বদলে যাওয়া যে রুপ, সেটার স্বার্থক বর্ণনা।

বইটা বিভিন্ন মানষিক অবস্থায় আপনাকে ভিন্ন ভিন্ন আনন্দ দিবে। আপনি যদি বর্তমানে খুবই মানসিক প্রেশারে থাকেন। আপনার চারদিকের পৃথিবী আপনার উপর সংকীর্ণ হয়ে আসতে থাকে, তবে বইটা এই মূহুর্তে আপনার জন্যই খুবই দরকারি। বইটা পড়ার পরে আপনার অনেক জট খুলে যাবে।

আরও পড়ুনঃ এইসব দিনরাত্রি হুমায়ুন আহমেদ উপন্যাস রিভিউ | Eisob Dinratri Book PDF

একটা বীজ রুপনের পর ধিরে ধিরে যেভাবে গাছ হয়ে উঠে, গল্পটাও ঠিক সেভাবেই অতি ধীরে জন্ম থেকে আপনাকে পরিপূর্ণতার দিকে নিয়ে যাবে। আপনি লক্ষ্য করবেন গল্পটা আস্তে আস্তে আপনার পা, হাঁটু, কোমর, বুক, গলা, নাক, মুখ, চোখ, মাথা হয়ে পুরো আপনিটাকেই গ্রাস করে ফেলেছে।

আপনি দেখতে পাবেন, একজন লেখক যখন প্রকৃতই লেখক হয় তখন তাকে বিভিন্ন জিনিসের আড়ালে আশ্রয় নিতে হয়না। না ধর্ম, না সমাজ, না বিভিন্ন ম্যাটাফোর, বা অন্যকোন লেখকের স্টাইলের আড়ালে আশ্রয়।

লেখকরা সব সময়েই সমাজের অসংগতি নিয়ে প্রতিবাদ করেছেন তাদের গল্প উপন্যাসের মাধ্যমে। সমাজের যে কুসংস্কার গোড়ামি ছিলো বা যা কিছু ক্ষতিকর তার বিরুদ্ধেই লেখার মাধ্যমে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। একজনের লেখার আলোচনা করতে গিয়ে অন্যকারো সমালোচনা করা ঠিকনা। কিন্তু জিনিসটা প্রাসঙ্গিক তাই বলতে হচ্ছে –

এখনকার লেখকরা অনুকরণ করেন। অনেকে বড় বড় লেখকদের লেখা সরাসরি কপিও মেরে নিজের বলে চালিয়ে দেন। তা করুন, যার যা ইচ্ছা করবে কি আর বলার আছে। কিন্তু বর্তমান লেখকরা আপডেট হচ্ছেন না কেন বুঝিনা!

অনুকরণ করতে গিয়ে সেই একই রকম ভাবে ধর্মের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়া, যে কোন নিয়মশৃঙ্খলা ধ্বংস করে গুঁড়িয়ে দেওয়ার কথা বলা। অনিয়মই সবচেয়ে বড় নিয়ম তা মেনে লেখালেখি করা এগুলাই কেন করে যাচ্ছেন! তাদের কি চোখ নাই? নাকি তারা দেখেন না! সমাজ বদলেছে। এখন প্রতিবাদের ধরন ও বদলানো উচিত। খারাপ শৃঙ্খল ভাঙতে ভাঙতে ভালো শৃঙ্খলা ও নিয়মানুবর্তিতাও যে ধ্বংসের মুখে এটা যদি লেখকরা না বুঝেন ত বুঝবে কোন চ্যাটের বাল।

আরও পড়ুনঃ আরেক ফাল্গুন পিডিএফ জহির রায়হান উপন্যাস রিভিউ | PDF

মানুষের মধ্যে যে কি ভিষণ হাহাকার প্রতিনিয়ত। অশান্তির এই যে মহোৎসব হচ্ছে চারদিকে তার কারণ কি চোখে পড়ে না বর্তমান লেখকদের? হুমায়ুন আহমেদ কপি করে, ফেসবুকে বিভিন্ন মানুষের ছবির ক্যাপশন হতে পারে এমন কিছু নিজস্ব লাইন লিখে একটা বই লিখে ফেলতে লজ্জা করেনা?

সমাজের সংস্কার, সমাজের দুঃখ কষ্ট, মানুষের মন এগুলা নিয়ে যদি নাই ভাবতে পারে তাহলে নিজেকে লেখক ভাবার আগে নিজের গালে জুতা মারেনা কেন। ঝুলে পড়েনা কেন গাছের ডালে?

মুরাকামির নরোজিয়ান উডসে নাগাসাওয়া একটা কথা বলেছিলো, যে লেখক মারা গেছেন অন্তত ৩০ বছর আগে তার বই ছাড়া অন্যদের বই সে পড়ে না। মাঝেমাঝে আমার মনেহয় বর্তমান সব পাঠকদের এই কাজই করা উচিত। ভালো মানের সাহিত্য ত পড়াই হবে, উপরি হিসেবে নিলজ্জ্ব ভাবে নিজেকে লেখক হিসেবে দাবি করা এসব কিটদের থেকেও রক্ষা পাওয়া যাবে। 

আরও পড়ুনঃ রিক্তের বেদন গল্পের বিষয়বস্তু | রিভিউ | PDF | কাজী নজরুল ইসলাম

কিন্তু আমি পার্সনালি নতুনদের লেখা পড়ার পক্ষপাতি। লেখা না পড়লে বই বিক্রি না হলে অনুপ্রেরণা পাবে কোথায়! কিন্তু প্রতি বই মেলায় নতুনদের বই কিনি আর অবাক হয়ে লক্ষ্য করি হুমায়ূন আহমেদ মরে গিয়েও কিরকম করে বেঁচে আছেন এদের মাথায়। কোন অন্তঃদৃষ্টি নাই। কোন সাহসী একটা কথা নাই। নাই কোন মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ।

পুতুল নাচ পড়ে আবার বুঝতে পারলাম সৃষ্টি কি জিনিস। স্রষ্টা হওয়াটা এত সহজ কোন বিষয়না। গভীর তপস্যা অফুরন্ত সাহস, সমাজ বা মানুষের জন্য ভালো করার নিঃস্বার্থ চেষ্টা কাওকে কোন সৃষ্টির স্রষ্টা হতে সাহায্য করে।

বারবার ফিরে আসুক পুতুল নাচের ইতিকথা এর মত বই। বারবার ফিরে আসুন মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়। হাজার বছর ধরে ফিরে আসুন প্রকৃত লেখক, কবি। সমাজ, মানুষ, মানুষের মন নিয়ে ভাবার মত সাহিত্যিক।

রিভিউ করেছেনঃ আরিফ বাবু

আরও পড়ুনঃ পরিণীতা উপন্যাস রিভিউ PDF Download | শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

Tags:
x
error: Content is protected !!