Skip to content
Home » বিরাজ বৌ PDF রিভিউ | শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় উপন্যাস

বিরাজ বৌ PDF রিভিউ | শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় উপন্যাস

বিরাজ বৌ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় PDF রিভিউ

বইঃ বিরাজ বৌ
লেখকঃ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

বইয়ের প্রেক্ষাপটঃ

বিরাজবৌ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় উপন্যাস। শরৎচন্দ্র প্রথমে এটিকে গল্প আকারে রচিত করলেও পরবর্তীতে গল্পটিকে উপন্যাসে পরিবর্ধন করেন। উপন্যাসের প্রেক্ষাপট গড়ে ওঠে হুগলি জেলার সপ্তগ্রামের এক হিন্দু মধ্যবিত্ত পরিবারের দুই ভাই নীলাম্বর আর পীতাম্বরের পারিবারিক জীবনকে অবলম্বন করে। উপন্যাসের মূল চরিত্র ছিল নীলাম্বরের স্ত্রী বিরাজ। উপন্যাসে স্থান পেয়েছে স্বামী-স্ত্রীর অগাধ ভালোবাসা, ভাই-বোনের সম্পর্ক, মধ্যবিত্ত পরিবারের আর্থিক কষ্ট; সবশেষে অভাবের তাড়নায় বিরাজের করুণ পরিণতি।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের এই উপন্যাসটিকে কেন্দ্র করে ১৯৭২ সালে পরিচালক মনু সেন “বিরাজ বৌ” নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন যেখানে অভিনয় করেছিলেন উত্তম কুমার, অনুপ কুমার, মাধবী মুখোপাধ্যায় ও কমল মিত্র।

বইটির সারসংক্ষেপঃ

বিরাজ যখন নয় বৎসর তখন তার বিবাহ হয় বলে তাকে বিরাজবৌ নামেই ডাকা হত। সে অসামান্য সুন্দরী ছিল। বিরাজ ছিল নীলাম্বরের স্ত্রী। নীলাম্বরের পেশা ছিল মড়া পোড়ানো, কীর্তন গাওয়া, খোল বাজানো। অন্যদিকে নীলাম্বরের ভাই পীতাম্বর ছিল আর্জি লেখক।

নীলাম্বরের মা মারা যাওয়ার পর থেকেই তাদের বোন হরিমতি বিরাজের কাছে লালিতপালিত হতো। নীলাম্বর ও বিরাজ দুজনেই হরিমতিকে অসম্ভব ভালোবাসতো। হরিমতির বিবাহ দিতে গিয়ে ও তার শশুড় বাড়ির পণ শোধ করতে গিয়ে নীলাম্বরের জমি জায়গা বিক্রি করতে ও বাঁধা দিতে হয়েছিল। সেই থেকে নীলাম্বরের সংসারে আর্থিক অনটন শুরু হয়।

এরই মধ্যে একদিন বিরাজ বাড়ির সামনের ঘাটে গোসল করতে গেলে রাজেন্দ্রকুমার নামে এক জমিদারের ছেলের নজরে পড়ে। তারপর থেকে সে বিরাজকে একনজর দেখার জন্য তার বাড়ির সামনের ঘাটে অবস্থান শুরু করে এবং বিরাজের দাসী সুন্দরীকে দিয়ে নানা তথ্য জানার চেষ্টা করে।

আরও পড়ুনঃ পরিণীতা উপন্যাস রিভিউ PDF Download | শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

একদিকে আর্থিক সংকট অন্যদিকে বিরাজ ও নীলাম্বরের সম্পর্কের টানাপোড়ন শুরু হয়। নীলাম্বরের সাথে তার ভাই পীতাম্বরের মিল না থাকলেও পীতাম্বরের স্ত্রী মোহিনী বিরাজকে নানান ভাবে সাহায্য করার চেষ্টা করলে বিরাজ তা গ্রহণ করতো না।

অর্থাভাবে নীলাম্বর একদিন পাশের গ্রামে কাজে গেলে তিন দিন তার কোনো খোঁজ মেলে না; পরে বিরাজ যখন এক পথিকের কাছে শুনতে পারে নীলাম্বর বাড়িতে আসছে তখন তিন দিনের অভুক্ত বিরাজ স্বামীর খাবারের জন্য পাশের ভাড়ানির বাড়িতে চাল চেয়ে নিয়ে আসার সময় নীলাম্বর দেখে ফেলে।

নীলাম্বর ভাবে বিরাজ হয়তো রাজেন্দ্রকুমারের সাথে দেখা করতে গিয়েছিল; তখন মাতাল অবস্থায় বিরাজকে আঘাত করলে বিরাজ বাড়ি থেকে বের হয়ে আত্মহুতি দিতে যায়। নীলাম্বর অবশ্য পরে যখন জানতে পারে বিরাজ তার খাবারের ব্যবস্থার জন্য পাশের বাড়িতে গিয়েছিল তখন সে অনুতপ্তে জর্জরিত হয়ে যায়।

আরও পড়ুনঃ পিডিএফ বলতে কি বুঝায় ? এর কাজ কি ? বাংলা পিডিএফ বই ফ্রি ডাউনলোড

সবাই যখন জানে বিরাজ নদীতে আত্নহুতি দিয়েছে তখন দুমাস পর দাসী সুন্দরী নীলাম্বরকে বলে সে বিরাজকে রাজেন্দ্র কুমারের বজরাতে তুলে দিয়ে এসেছে। কিন্তু বিরাজ যে অবচেতন মনে রাজেন্দ্রকুমারের বজরাতে ওঠে এবং যখন সে স্বজ্ঞ্যানে আসে তখন সে বজরা থেকে নদীতে ঝাপ দিয়ে কূলে ভেসে উঠলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তা কেউ জানতো না।

পরবর্তীতে হরিমতি যখন বহু বছর পর তার ভাইয়ের কাছে আসে তখন সব শুনে অনেক কষ্ট পায় ও ভাইকে ভালো রাখতে নানান জায়গায় ঘুরতে নিয়ে যায়। বিরাজ যখন দুঃখে, কষ্টে, অনুশোচনায় নিরুদ্দেশ হওয়ার কথা ভাবে তখন শারীরিকভাবে দূর্বল হয়ে পড়লে তার মনে আগের সেই মনোবাসনা জাগে যে স্বামীর পায়ের ধুলি মাথায় নিয়ে মরবে। তাই সে বাড়ির উদ্দেশ্য রওনা দিয়ে অসুস্থ অবস্থায় এক মন্দিরের বসে থাকার সময় নীলাম্বর তার হাত মাড়িয়ে দেওয়ার সময় বুঝতে পারে এটাই তার স্ত্রী। অনুতপ্ত নীলাম্বর বিরাজকে বাড়িতে নিয়ে আসে এবং বিরাজ তার স্বামীর পায়ের ধুলে নিয়েই মারা যায়।

আরও পড়ুনঃ ইন্দুবালা ভাতের হোটেল PDF রিভিউ | কল্লোল লাহিড়ী | Read Online

পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ

পণ বা যৌতুক প্রথা কীভাবে একটা পরিবারকে ধ্বংস করে দিতে বা একটা পরিবারের কি করুন অবস্থা তৈরি করতে পারে বিরাজবৌ উপন্যাস তারই একটি উদাহরণ। পাশাপাশি স্বামী স্ত্রীর অগাধ ভালোবাসা, ভাই বোনের মধুর সম্পর্ক গল্পটিকে অন্য মাত্রা দিলেও, বিরাজের করূণ পরিণতি অসহনীয়।

লেখক পরিচিতিঃ

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৭৬ – ১৯৩৮ খ্রীঃ) ছিলেন একজন বাঙালি লেখক, ঔপন্যাসিক, কথাশিল্পী ও গল্পকার। তিনি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম এবং বাংলা ভাষার সবচেয়ে জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে অপ্রতিদ্বন্দ্বী জনপ্রিয়তার দরুন তিনি ‘অপরাজেয় কথাশিল্পী’ নামে খ্যাত। সামাজিক বৈষম্য, কুসংস্কার ও শাস্ত্রীয় অনাচারের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন উচ্চকণ্ঠ। কাহিনী নির্মাণে অসামান্য কুশলতা এবং অতি প্রাঞ্জল ও সাবলীল ভাষা তাঁর কথাসাহিত্যের জনপ্রিয়তা ও খ্যাতির প্রধান কারণ। ১৯৩৮ সালের ১৬ জানুয়ারি কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

রিভিউ করেছেনঃ Munzeera Eshita

আরও পড়ুনঃ শেষ বিকেলের মেয়ে উপন্যাস রিভিউ PDF | জহির রায়হান

Tags:
x
error: Content is protected !!