Skip to content
Home » সিদ্ধান্তহীনতা দূর করার উপায় কি? আমরা কেন সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগি?

সিদ্ধান্তহীনতা দূর করার উপায় কি? আমরা কেন সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগি?

সিদ্ধান্তহীনতা দূর করার উপায়

সিদ্ধান্তহীনতা দূর করার উপায় সম্পর্কে আলোচনা করার পূর্বে চলুন আগে সিদ্ধান্তহীনতা শব্দটি কিভাবে কোথা থেকে আসছে সে সম্পর্কে একটু ধারণা নিয়ে নেই। তারপর আমরা একটা কৌশল সম্পর্কে জানবো যা খুব সহজেই আপনাকে এ সমস্যা থেকে মুক্তি দিবে।

সিদ্ধান্তহীনতা কি ?

সিদ্ধান্তহীনতা english হচ্ছে “decidophobia” যার অর্থ “fear of making the wrong decision” অর্থাৎ “ভুল সিদ্ধান্ত নেয়ার ভয়”। মানে যে সিদ্ধান্তটা নিতে যাচ্ছি সেটা ভুল হয়ে যায় কি না এই ভয়টা যখন কাজ করবে তখন তাকে বলা যায় সে “ডিসাইডোফোবিয়া” তে ভুগতেছে। ওয়াল্টার কাফম্যান নামের এক ভদ্রলোক এই শব্দটির প্রচলন করেন এবং বলেছেন সবচেয়ে ছোট ছোট পছন্দের ক্ষেত্রেও অনেকের মাঝে এই “ডিসাইডোফোবিয়া” কাজ করে। যেমনঃ দুপুরের খাবারে কি খাওয়া যায় অথবা বাহিরে যাবার সময় কোন ড্রেসটা পড়া উচিত এসব ছোট ছোট বিষয়েও অনেকে সিদ্ধান্ত নিতে হিমশিম খায়।

ছাত্র-ছাত্রীরাও প্রতিনিয়ত বই পড়া, পরীক্ষা, ক্লাস এসব নিয়ে নানা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগে। কিছু ভুল সিদ্ধান্ত একটা স্টুডেন্টকে ক্রমশ ডিপ্রেশানের দিকে ঠেলে দিতে পারে। আজকে আমরা তাদের জন্য সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগার কারণ, দূর করার উপায়, সিদ্ধান্ত গ্রহনের ধাপ সমূহ, সকল প্রকার নেগেটিভ চিন্তা অথবা দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি ও মানসিক শান্তি লাভের উপায় ছাড়াও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার কৌশল কি কি হতে পারে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো।

সিদ্ধান্তহীনতা দূর করার উপায়

সিদ্ধান্তহীনতা দূর করতে অনেকজন অনেক উপায় বললেও শুধু একটিমাত্র পন্থা অবলম্বন করে আপনি সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারবেন। আজকে আমরা সেই পন্থাটাই আলোচনা করবো এবং আশা করছি সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে খুবই সহায়ক হবে।

আমার মতে প্রায়োরিটি বা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যদি সিদ্ধান্ত নেই তাহলে সকল সিদ্ধান্তই সঠিকভাবে নেয়া সম্ভব। আসুন বুঝিয়ে বলি, ধরুন আগামি শুক্রবার আপনার বন্ধুর বিয়ে এবং সেদিন আপনার বিসিএস পরীক্ষাও আছে। তাহলে কোনটায় উপস্থিত হবেন? বিয়েতে নাকি পরীক্ষায়? অবশ্যই বিসিএস পরীক্ষায় উপস্থিত হবেন। কারণ বিসিএস এর মত একটা পরীক্ষা আপনার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর যেটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেটাকেই প্রায়োরিটি দিবেন এবং সিদ্ধান্ত নিবেন।

এখন পরীক্ষাটা যদি বিসিএস না হয়ে অন্য কোন সাধারণ পরীক্ষা হতো যেটায় অনুপস্থিত থাকলেও সমস্যা না, সেক্ষেত্রে পরীক্ষা বাদ দিয়ে বিয়েতে আনন্দ করতে চলে যেতেন।

এই যে দুটো বিষয়ের মাঝে তুলনা করে সিদ্ধান্তটা নিলেন, এটাই সিদ্ধান্ত নেয়ার সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকরী উপায়। এই উপায়ে সিদ্ধান্ত নিলে সবসময় সঠিক সিদ্ধান্তটাই সিলেক্ট করতে পারবেন। তবে আপনাকে কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ এটা ভালোভাবে আইডেন্টিফাই করতে হবে।

আরও পড়ুনঃ পড়তে বসলে ঘুম আসে কেন ? অতিরিক্ত ঘুম থেকে মুক্তির উপায় কি ?

আবার ধরুন আপনার ওয়াইফ আপনাকে কল দিলো কিন্তু তখন আপনি অফিসের একটা মিটিং এ আছেন। এইদুটো বিষয়ের মাঝে কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ? কল ধরা নাকি মিটিং চালিয়ে যাওয়া? কোনটাকে প্রায়োরিটি দেয়া উচিত? কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ?

এই গুরুত্বপূর্ণের বিষয়টা অনেক কিছু ভেরি করে। মানে স্থান-কাল-পাত্র ভেদে ভিন্ন ভিন্ন হতে পারি তাই পরিস্থিতি ভেদে হিসাব করে দেখবেন কোন বিষয়টা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এখন যদি বাসায় বাচ্চাকে অসুস্থ রেখে আসেন, এবং ওয়াইফ কল দেয় তাহলে নিশ্চয়ই আপনার মাঝে টেনশন কাজ করবে যে বাচ্চার অবস্থা খারাপ হয়েছে কি না। সেক্ষেত্রে মিটিং এর চেয়ে আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হবে ওয়াইফের কলটা রিসিভ করা।

এইভাবে আপনি আগে দুটো বিষয়কে ভাগ করে সামনে নিয়ে আসবেন এবং চিন্তা করবেন এই ২টা থেকে আমাকে ১টা সিলেক্ট করতে হবে। তারপর যেটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেটাকে সিলেক্ট করবেন।

কিন্তু যখন অনেকগুলো অপশন সামনে থাকবে, তখন? মানে যদি এমন হয় যে আগামি শুক্রবার বন্ধুর বিয়েও আছে, বিসিএস পরীক্ষাও আছে, আবার আপনার বাবার অপারেশনও আছে। তখন অবশ্যই সবগুলো থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হবে বাবার অপারেশন। তখন কিন্তু বন্ধুর বিয়েটা লিস্ট থেকে আগেই বাদ হয়ে যাবে। তখন তুলনা হবে পরীক্ষা এবং অপারেশন নিয়ে। মানে অপশন বেশি থাকলে সবচেয়ে উপরে যে দুটো থাকবে সেই দুটো থেকে কম্পেয়ার করে ডিসিশানটা নিতে হবে। এই ক্ষেত্রে বাবার অপারেশনে অন্য কেউ উপস্থিত থাকলে আপনি পরীক্ষা দিতেও চলে যেতে পারেন। মানে সবকিছু নির্ভর করে পরিস্থিতির উপর। তবে আপনি যদি সেই পরিস্থিতি বিবেচনা করে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টা সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে পারেন, তখন আপনার সিদ্ধান্ত শতভাগ সঠিক হবে।

সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগার কারণ

আমরা সাধারণত সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগি এই প্রায়োরিটি লিস্টটা তৈরি করতে না পারার কারণে। তাই এখন থেকে চেষ্টা করবেন আপনার সামনে যা আসছে সেগুলোকে ক্লাসিফাই করে কয়েকটা ভাগ করে ফেলা এবং সেখান থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যেটা মনে হবে সেটা সিলেক্ট করে সিদ্ধান্ত নেয়া। এই গুরুত্বপূর্ণের বিষয়টাও আপনার নিজেকেই বুঝতে হবে। তাই নিজে নিজেই সিদ্ধান্ত নিবেন। অন্যদের কাছ থেকে পরামর্শ নিতে পারেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তটা আপনিই নিবেন।

কোনকিছু নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগার কারণ হিসেবে প্রথমত দায়ী করা হয় অন্তর্নিহিত ‘উদ্বেগ’ কে। কিছু কিছু মানুষ থাকে যারা সবকিছু নিয়ে খুব বেশি সিরিয়াস থাকে এবং ছোটখাট অনেক বিষয়ও তাঁদের কাছে খুব বড় মনে হয়। যার কারণে তাঁদের মাঝে একটা ব্যক্তিগত উদ্বেগ কাজ করে। সেই অন্তর্নিহিত ‘উদ্বেগ’ এর কারণে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনা।

আরও পড়ুনঃ ডাক্তারদের হাতের লেখা খারাপ হয় কেন? প্রেসক্রিপশন বোঝার উপায় কি

দ্বিতীয়ত খুঁতখুঁতে স্বভাবের মানুষজনের কাছে সবকিছু নিখুঁতভাবে করার একটা প্রবণতা থাকে যা তাঁদেরকে সিদ্ধান্তহীনতার দিকে ঠেলে দেয়।

সম্ভাব্য ফলাফলের অনিশ্চিয়তা আরেকটা অন্যতম কারণ যা তাকে সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগায়।

কিছু মানুষ থাকে যারা বারবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে, সবচেয়ে সমস্যা হয় তাঁদের ক্ষেত্রেই। শেষ পর্যন্ত আসলেই তাঁরা সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনা এবং শেষের সিদ্ধান্তটাও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভুল হয়।

সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগার আরেকটি প্রধান কারণ হলো নিজের সিদ্ধান্ত নিজে না নেয়া। অনেকে অন্যের উপর নির্ভরশীল থেকে নিজের সিদ্ধান্তটাও আরেকজনের উপর চাপিয়ে দেয়। ফলাফল যার উপর চাপানো হয় সে তাঁর মত করে সিদ্ধান্ত দেয় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেটা সঠিক সিদ্ধান্ত হয়না।

তাই উপরের সিদ্ধান্তহীনতা দূর করার উপায় সমূহ সঠিকভাবে মেনে চলার চেষ্টা করুন এবং মানসিক প্রশান্তি লাভ করুন। ধন্যবাদ

Tags:
x
error: Content is protected !!