Skip to content
Home » বই পড়ার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা | বৈজ্ঞানিক গবেষণালব্ধ কিছু উপকারিতা

বই পড়ার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা | বৈজ্ঞানিক গবেষণালব্ধ কিছু উপকারিতা

উপন্যাস গল্পের বই পড়ার গুরুত্ব ও উপকারিতা প্রয়োজনীয়তা

ছোটবেলায় পাঠ্যবইয়ের চেয়ে গল্পের বই / ফিকশনাল বইয়ের প্রতি যাদের নেশা ছিলো বেশি তাঁদের নিশ্চয়ই লুকিয়ে লুকিয়ে বই পড়ার অভ্যাস ছিলো। আমাদের অনেক বাবা-মায়েরাই গল্পের বই পড়ার গুরুত্ব এবং উপকারিতা সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান না রাখার কারণে তারা হয়তো মনে করতেন আউটবই (পাঠ্যবইয়ের বাইরে গল্প, উপন্যাসের বই) ছেলেমেয়েদের সময় নষ্ট করে অথবা ঐসব বই পড়ার বয়স এখনো হয়নি।

সবার ক্ষেত্রে এমনটা ঘটেছে কি না বলা যায়না কিন্তু আমি এবং আমাদের অনেক বন্ধুরা এই সমস্যাটা ফেস করেছি যার কারণে লুকিয়ে বই পড়ার অনেক স্মৃতি জমাতে পেরেছি। এখনো হয়তো আমাদের মধ্যে অনেকে পাঠ্যপুস্তকের বাইরে বই পড়তে চায় না। বিশেষ করে ফিকশনাল বই পড়াকে সময় নষ্ট করা বলে মনে করে। অথচ বিজ্ঞান বলছে নিয়মিত বই পড়লে আপনার অনেক মানসিক উন্নতি হবে। গল্প উপন্যাস ছাড়াও অন্যান্য সকল বই পড়ার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বিজ্ঞান যা বলে সেগুলো নিয়েই আজকের আলোচনা।

১) মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিঃ

বই পড়লে আপনার মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। “Short- and Long-Term Effects of a Novel on Connectivity in the Brain” নামক একটি গবেষণায় বিজ্ঞানীরা MRI পরীক্ষা  করে দেখেছেন কিভাবে উপন্যাস পড়ার সময় মস্তিষ্কের সক্রিয়তা বৃদ্ধি পায়। ২০১৩ সালেই সেই গবেষণায় দেখা যায় বই পড়ার পুরো সময় জুড়ে এবং তার পরের দিনগুলিতে, মস্তিষ্কের সংযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে, বিশেষত মস্তিষ্কের সোমাটোসেন্সরি কর্টেক্সে অংশে যা নড়াচড়া এবং ব্যথার মতো শারীরিক সংবেদনগুলিতে সাড়া দেয়।

২) বইয়ের সাথে উষ্ণ এবং সুখী মেলামেশা তৈরিঃ

ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের ডাক্তাররা মনে করেন শিশু এবং পিতামাতা একসাথে পড়া উচিত এবং এটি বাচ্চাদের শৈশবকাল থেকে শুরু করে প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত চালিয়ে গেলে ভালো। এতে বাচ্চাদেরকে বইয়ের সাথে উষ্ণ এবং সুখী মেলামেশা তৈরি হয়, ভবিষ্যতে বাচ্চাদের পড়া আনন্দদায়ক হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়। সুতরাং একটা প্রজন্ম তৈরিতে বই পড়ার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা পরিবারের সবার জন্যই অপরিসীম।

৩) অনুভূতি এবং বিশ্বাস বোঝার ক্ষমতা বাড়ায়ঃ

সেন্সিং পেইন রিসার্চে দেখা গেছে যে যারা কথাসাহিত্য পড়েন, তারা অন্যদের অনুভূতি এবং বিশ্বাস বোঝার উচ্চ ক্ষমতা রাখে। গবেষকরা এই ক্ষমতাটিকে “মনের তত্ত্ব” বলে থাকেন, সামাজিক সম্পর্ক তৈরি এবং বজায় রাখার জন্য এটি একটি প্রয়োজনীয় দক্ষতা। যদিও অল্প কিছু কথাসাহিত্য পাঠ এই অনুভূতির জন্ম দিতে পারে না, গবেষণার বিশ্বস্ত উত্স দেখায় যে দীর্ঘমেয়াদী কথাসাহিত্য পাঠকদের মনের একটি উন্নত-বিকশিত তত্ত্ব থাকে।

আরও পড়ুনঃ হাট্টিমাটিম টিম ছড়াটির লেখক কে? সম্পূর্ণ কবিতার আসল রচয়িতা কে?

৪) শব্দ-ভাণ্ডার বৃদ্ধিঃ

গবেষকরা খুঁজে পেয়েছেন যেসকল ছাত্র অল্প বয়স থেকেই নিয়মিত বই পড়ে তাদের ধীরে ধীরে বড় শব্দভান্ডার তৈরি হয়। এই শব্দভান্ডার আপনার জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কাজে লাগে, পরীক্ষায় নম্বর থেকে শুরু করে কলেজে ভর্তি এবং চাকরির সুযোগে বড় প্রভাব বিস্তার করে।

২০১৯ সালে Cengage দ্বারা পরিচালিত একটি জরিপে দেখা যায় ৬৯ শতাংশ নিয়োগকর্তা তাদেরকেই হায়ার করতে চায় যারা খুব ভালো যোগাযোগ দক্ষতা রাখে এবং যাদের শব্দভান্ডার খুব গভীর। আর সেই প্রেক্ষাপটে নতুন শব্দের জ্ঞান বাড়ানোর সবচেয়ে ভালো উপায় হলো বই পড়া।

৫) মস্তিষ্ক সচল রাখার জন্য বিভিন্ন গাণিতিক সমস্যা সমাধান এবং বই পড়াঃ

যদিও গবেষণায় চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি যে বই পড়া আলঝেইমারের মতো রোগ প্রতিরোধ করতে পারে, কিন্তু উত্স দেখায় যে বয়স্করা যারা প্রতিদিন গণিতের সমস্যাগুলি পড়ে এবং সমাধান করে তারা তাদের জ্ঞানের কার্যকারিতা বজায় থাকে এবং উন্নত হয়। তাই বৃদ্ধ বয়সে মস্তিষ্ক সচল রাখতে বিভিন্ন গাণিতিক সমস্যা সমাধান এবং বই পড়া অত্যন্ত কার্যকর।

৬) হতাশা ও দুশ্চিন্তা কমাতে বইঃ

২০০৯ সালে আমেরিকায় এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা স্ট্রেস লেভেলের উপর ইয়োগা ও বই পড়ার পরিমাপ করেন। তারা দেখতে পান আধা ঘন্টা বই পড়া ইয়োগার মতই আমাদের ব্লাড প্রেসার, উচ্চ হৃদস্পন্দন ও মানসিক অশান্তি কমায়।

আরও পড়ুনঃ পিডিএফ বলতে কি বুঝায় ? এর কাজ কি ? বাংলা পিডিএফ বই ফ্রি ডাউনলোড

অন্যদিকে বই পড়া ডিপ্রেশন বা হতাশাও হ্রাস করে। মানুষ যখন একাকিত্বে ভোগে বই পড়ার মাধ্যমে সে তখন বইয়ের  কাল্পনিক জগতে প্রবেশ করার মাধ্যমে সাময়িকভাবে নিজের বাস্তব জগৎ থেকে মুক্তি পেতে পারে। এই কারণেই যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস “Reading Well” নামে একটি প্রেসক্রিপশন প্রোগ্রাম শুরু করেছে যেখানে বিশেষজ্ঞরা বিশেষভাবে কিছু শর্তের জন্য চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের দ্বারা সহায়ক বইগুলি লিখে দেন।

৭) বই পড়া আপনার আয়ু বৃদ্ধিতেও সহায়ক হতে পারেঃ

৩৬৩৫ জন অংশগ্রহণকারীর উপর ১২ বছর ধরে করা একটি দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য এবং অবসর সমীক্ষায় দেখা গেছে যারা বই পড়েন তারা, যারা পড়েননি বা যারা ম্যাগাজিন এবং অন্যান্য ধরণের মিডিয়া পড়েন তাদের তুলনায় প্রায় ২ বছর বেশি বেঁচে ছিলেন। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে যারা প্রতি সপ্তাহে ৩ ঘন্টার বেশি পড়েন তাদের ২৩ শতাংশ বেশি বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ছিল যারা একেবারেই পড়েননি।

আরও পড়ুনঃ নকশী কাঁথার মাঠ কাব্যগ্রন্থের রুপাই চরিত্রের বাস্তব পরিচয় ও জীবনী

বই পড়ার এমন শত শত উপকারিতা আছে কিন্তু অপকারিতা নেই বললেই চলে। এইখানে শুধু বিজ্ঞানের প্রমাণিত কিছু বিষয় নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে। আমরা যদি এর বাইরে চিন্তা করতে যাই বই পড়ার প্রয়োজনীয়তা বলে শেষ করা যাবেনা। এত গুরুত্ব, এতো উপকারিতা থাকার পরও আপনি কেন বই পড়বেন না? বই পড়ুন, বইয়ের পাঠশালার সাথেই থাকুন।

সবশেষে মালালা ইউসুফজাই এর একটি উক্তি দিয়ে বলতে চাই-

“একটি বই, একটি কলম, একটি শিশু এবং একজন শিক্ষক পুরো পৃথিবীকে বদলে দিতে পারে”।

আরও পড়ুনঃ বিরাজ বৌ PDF রিভিউ | শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় উপন্যাস

Tags:
x
error: Content is protected !!