Skip to content
Home » ভোকাবুলারি শেখার সবচেয়ে সহজ ও কার্যকরী ১০টি উপায়

ভোকাবুলারি শেখার সবচেয়ে সহজ ও কার্যকরী ১০টি উপায়

ভোকাবুলারি শেখার উপায়

বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা থেকে শুরু করে IELTS / GRE প্রিপারেশনে ভোকাবুলারির প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। ভোকাবুলারি শেখার উপায় সম্পর্কে আজকের আলোচনা। ছোটবেলা থেকে পাঠ্যপুস্তকে যেসকল ভোকাবুলারি শিখে আসি সে সংখ্যাটা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য যথেষ্ট নয়। এসব পরীক্ষায় টিকে থাকতে হলে শব্দভান্ডার আরও সমৃদ্ধ করতে হবে। কেননা এগুলতে একাডেমিক ভোকাবুলারি আসে এবং একাডেমিক ভোকাবুলারিগুলো সাধারণত একটু কঠিন হয়ে থাকে। বারবার পড়লেও মনে থাকেনা।

শুধু পরীক্ষাই না, ভোকাবুলারি নলেজ বেশি থাকলে ইংরেজি ভাষাটা আপনার জন্য আরও সহজ হয়ে যাবে। শুধু সঠিক সময়ে সঠিক শব্দগুলো মাথা থেকে বের করে আনতে পারলেই ইংলিশ স্পিকিং এবং রাইটিং আপনার কাছে পানি হয়ে যাবে। ভালো শব্দভান্ডার আপনাকে লিসেনিং-এ ও আপনাকে যথেষ্ট সহায়তা করবে। মোটকথা ইংরেজি ভাষাটাকে আয়ত্তে আনতে ভোকাবুলারির কোন বিকল্প নেই।

ভোকাবুলারি শেখার উপায়

আজকে আমরা জানবো সবচেয়ে কার্যকরীভাবে ভোকাবুলারি শেখার উপায়। যে উপায়গুলো অবলম্বন করে ইংরেজি ভোকাবুলারি শিখলে আমাদের ব্রেনে শব্দগুলো পারমানেন্টলি সেভ হয়ে যাবে। এইগুলোই ভোকাবুলারি শেখার সবচেয়ে সহজ এবং সেরা উপায়। আপনি যদি সঠিকভাবে নিয়মগুলো মেনে পড়া শুরু করেন তাহলে ভোকাবুলারি ভীতি একদম কমে যাবে। চলুন শুরু করা যাক।

১) Define it / শব্দটিকে definition সহ লিখুনঃ

ছোটবেলায় আমার এক বাংলা শিক্ষক “মঞ্জিল” শব্দটিকে ভেঙ্গে বুঝিয়েছিলো। “মঞ্জিল” মানে হচ্ছে এক দিনের পথ। আগের দিনে যখন যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত ছিলোনা তখন হেঁটে হেঁটে একস্থান থেকে আরেক স্থানে যেতে কয়েকদিন সময় লাগতো। সারাদিনের জার্নি শেষে রাতে থাকার জন্য পথিমধ্যে কারো বাড়িতে আশ্রয় নিতে হতো। এই যে একদিনের পথ অতিক্রম করার পর কারো বাড়িতে আশ্রয় নেয়া, সেই আশ্রিত বাড়িটিকে “মঞ্জিল” বলা হয়। সেদিনের পর থেকে আর “মঞ্জিল” শব্দটি ভুলিনি।

আপনারাও যদি কোন শব্দ শিখার সময় সেই শব্দটির আসল সংজ্ঞা কি, পিছনের ঘটনাটা কি, কিভাবে শব্দটির উৎপত্তি এসবকিছু বিবেচনায় নিয়ে গল্পের মত করে পড়েন তাহলে সেটা ব্রেইনে বেশি প্রভাব ফেলবে এবং পারমানেন্টলি মনে রাখবে। এখন এতো শব্দতো আর ভেঙ্গে ভেঙ্গে বিস্তারিত কাহিনী বুঝে পড়া সম্ভব হয়ে উঠবেনা। সেটার জন্য অনেক ডিকশনারিতে বা বইয়ে দেখবেন শব্দটার এক লাইনে ব্যাখ্যা দেয়া থাকে। সেসব বই ফলো করতে পারেন। আবার কিছু ওয়েবসাইট (যেমনঃ vocabulary.com) থেকেও পড়তে পারেন। সেই সাথে শব্দটির Parts of Speech এবং Synonym গুলোও পড়ে নিবেন।

আরও পড়ুনঃ সিদ্ধান্তহীনতা দূর করার উপায় কি? আমরা কেন সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগি?

২) Deconstruct it / শব্দটি ভেঙ্গে মূল শব্দ বের করাঃ

Deconstruct শব্দটিকেই যদি আমরা দেখি, এখানে মূল শব্দটি হচ্ছে construct এবং সামনে De প্রেফিক্স যুক্ত হয়ে Deconstruct গঠিত হয়েছে। এখানে মূল শব্দ হলো construct. এইভাবে যখন আমরা একটা শব্দকে ভেঙ্গে মূল শব্দটা ধরতে পারবো, তখন সেই মূল শব্দটার সাথে সাফিক্স / প্রিফিক্স যুক্ত করে আরও অনেক শব্দ নিজেরাই তৈরি করে ফেলতে পারবো এবং একসাথে অনেকগুলো শব্দ শিখে ফেলতে পারবো।

যেমনঃ loquacious শব্দটির অর্থ হচ্ছে বাচাল বা যে বেশি কথা বলে। এখানে মূল শব্দ loqu যার অর্থ বলা। সেখান থেকে যেসব শব্দগুলো উৎপত্তি সেগুলো নিশ্চয়ই কথা বলা সম্পর্কিতই হবে। যেমন- soliloquy মানে নিজে নিজে কথা বলা (দেখেন solo মানে একা loqu মানে কথা বলা) এইভাবে যখন শব্দগুলো Deconstruct করা ভেঙ্গেচুরে পড়া শিখে যাবেন তখন দেখবেন অনেক অজানা শব্দও অনুমানে অর্থ বুঝে ফেলবেন।

৩) Spaced Repetition Technique অবলম্বন করাঃ

মনে করেন আজ আপনার ক্লাসের প্রথম দিন। প্রথম দিন ক্লাস গিয়েই কি আপনি সবার মুখ ভালোভাবে চিনে ফেলবেন? নাহ, প্রথম দিনেই সবার চেহারা ব্রেন সেভ করবেনা। রাস্তায় হাঁটাচলায় যেমন আমরা অনেক অপরিচিত মানুষের দেখা পাই, ব্রেনও সবাইকে সেভাবেই ট্রিট করবে। কিন্তু আস্তে আস্তে যখন সবার সাথে কথাবার্তা হবে, প্রতিদিন চেহারাগুলো আবার দেখা হবে তখন ব্রেন ভাববে এই চেহারাগুলো বারবার আসতেছে, সুতরাং পার্মানেন্ট মেমরিতে সেভ করা দরকার। তখন ধীরে ধীরে সবাই আপনার ব্রেনের পার্মানেন্ট মেমরিতে সেভ হয়ে যাবে এবং আর ভুলবেন না।

Spaced Repetition ঠিক এমনি। একটা নির্দিষ্ট সময় পরপর কোনকিছু রিভিউ করাকেই Spaced Repetition Technique বলে। নির্দিষ্ট সময় পরপর রিভিউ করার মাধ্যমে ব্রেনকে বলে দেয়া হয় যে এইগুলো তুমি পার্মানেন্ট মেমরিতে সেভ করো। এইজন্য একটা পড়া আজকে শেষ করার পর, ৩দিন পর আবার পড়া উচিত, তারপর ১ সপ্তাহ, তারপর ২ সপ্তাহ, ৩ সপ্তাহ… এইভাবে কিছুদিন পরপর যদি রিভাইজ দেই তখন ব্রেন সেটাকে পার্মানেন্টলি সেভ করে এবং আর কখনোই ভুলা হয়না।   

আরও পড়ুনঃ পড়তে বসলে ঘুম আসে কেন ? অতিরিক্ত ঘুম থেকে মুক্তির উপায় কি ?

৪) Group it / গ্রুপ করে পড়াঃ

কতিপয় শব্দ যদি একসাথে গ্রুপ করে পড়া হয় তাহলে ব্রেনে একটা লিঙ্ক তৈরি হয়। পরেরবার মনে করার সময় দেখবেন সেই শব্দটার সাথে পড়া অন্য শব্দগুলোও মাথায় চলে আসবে। যেমনঃ synonym দিয়ে যদি গ্রুপ করে পড়ি, মানে পড়ার সময় synonymous word গুলোও যদি পড়ে ফেলি তাহলে পরেরবার একটা শব্দ মনে করতে চাইলে অন্যএকটা synonym ও মনে হয়ে যাবে। এইভাবে দ্রুত রিভাইজ হয় এবং Spaced Repetition Technique ও ফলো করা হয়ে যায়।

৫) Draw it / ব্রেইনে একটা ইমেজ তৈরি করার চেষ্টা করুনঃ

Pixnary.com নামে সুন্দর একটা ওয়েবসাইট আছে যেখানে প্রতিটা শব্দ ইমেজ / ছবির সাথে সামঞ্জস্য করে শিখা যায়। প্রতিটা শব্দের আগে একটা ইমেজ দিবে এবং সেই ইমেজটা দেখে শব্দটার অর্থ বুঝতে হবে। আমরা যেকোন কিছু ভিজুয়ালাইজ করার মাধ্যমে বেশি মনে রাখতে পারি। এই ওয়েবসাইট আপনাকে ভিজুয়ালাইজেশানে হেল্প করবে অথবা আপনি নিজে নিজে বই থেকে পড়লেও নিজে একটা ইমেজ তৈরি করার চেষ্টা করবেন।

আরও পড়ুনঃ ডাক্তারদের হাতের লেখা খারাপ হয় কেন? প্রেসক্রিপশন বোঝার উপায় কি

৬) Fictionize it / কল্পনায় একটা গল্প তৈরি করাঃ

যখন কোন ফিকশনাল স্টোরি পড়ি তখন যেমন আমাদের ব্রেনে একটা কল্পনার জগৎ তৈরি হয়। তেমনি কোন শব্দ পড়ার সময় সেই শব্দটা দিয়ে কল্পনায় কোন গল্প তৈরির মাধ্যমে ব্রেনকে এই শব্দটি মনে রাখতে প্রভাবিত করা যায়।

৭) Use Sense Organs / পঞ্চইন্দ্রিয় কাজে লাগানঃ

যদি কোন কাজ আমরা পাঁচটা ইন্দ্রিয়কে একসাথে কাজে লাগিয়ে করি সেটা দ্রুত ব্রেনে সেভ হয়। যেকোন একটা শব্দ পড়ার সময় উচ্চস্বরে বারবার পড়বো, সেই সাথে হাতে লিখতে থাকবো, চোখ দিয়ে দেখে দেখে পড়বো এবং কান দিয়ে শোনবো। এইভাবে যখন সবগুলো ইন্দ্রিয় একসাথে কাজ করবে তখন ব্রেন সেটা দ্রুত ধারণ করতে পারবে।

আরও পড়ুনঃ পাশ মার্ক ৩৩ কেন ? ইতিহাস ও আমাদের ঔপনিবেশিক মনোভাব

8) Speak & Record it / রেকর্ড করে শোনা এবং বলাঃ

শব্দগুলো রেকর্ড করে অবসর সময়ে অথবা ঘুমানোর আগে মুহূর্তে হেডফোনে শুনা অনেকের ক্ষেত্রেই হেল্পফুল হতে পারে। নিজে রেকর্ড করে বারবার শুনার ক্ষেত্রে ভুলগুলো সহজে আইডেন্টিফাই করা যায় বলে অনেকে এই পদ্ধতি অবলম্বন করে। আপনিও চেষ্টা করে দেখতে পারেন।

৯) Share it / অন্যদের সাথে শেয়ার করাঃ

কথাবার্তায়, আচার-আচরনে, চলায় ফেরায় প্রতিনিয়ত শিখা শব্দগুলো ব্যবহার করার মাধ্যমে আপনি সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন। বাসার ছোট বাচ্চাকে নিয়ে বসে তাকে শব্দগুলো শেখান। সে শিখতে পারবেনা কিন্তু আপনার প্র্যাক্টিস হয়ে যাবে। একজন মানুষ সবচেয়ে বেশি শিখে অন্যকে শিখানোর মাধ্যমে। অথবা রাস্তা দিয়ে যাবার সময় মনে মনে শব্দগুলো ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। পাশ দিয়ে একটা গাড়ী গেলে মনে মনে বলুন this is a white car, I want to buy a car. শব্দের সাথে স্পিকিংটাও প্র্যাকটিস হয়ে যাবে।

আরও পড়ুনঃ জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম-সনদ অথবা সার্টিফিকেটে নামের ভুল সংশোধন

১০) Quiz it / কুইজ তৈরি করুনঃ

অনেক ধরণের কুইজ সাইট আছে () সেগুলো থেকে কুইজ খেলুন। ফোনের জন্য কিছু ওয়ার্ড গেম টাইপের এপ আছে সেগুলো খেলতে পারেন। এছাড়াও ফ্ল্যাশ কার্ড জাতীয় কিছু কুইজ আছে সেগুলোর মাধ্যমেও নিজের জ্ঞানটা যাচাই করা যায়।

Tags:
x
error: Content is protected !!